ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৪:৪৯:০৪ PM

তিন সদস্যের সিন্ডিকেটে চলছে আরপিসিএল

স্টাফরিপোটার।।করাপশনমিরর.কম
24-09-2026 09:05:18 AM
তিন সদস্যের সিন্ডিকেটে চলছে আরপিসিএল

বিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডে (আরপিসিএল) এমডি পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি প্রকৌশলী এএইচএম রাশেদ। পরীক্ষায় তিনি দ্বিতীয় হন। কিন্তু তারপরও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগ বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমডি হিসেবে এএইচএম রাশেদের নিয়োগে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আরপিসিএলের বর্তমান নির্বাহী পরিচালক (ওএন্ডএম) রেজাউল কবীর, জেনারেল ম্যানেজার (অর্থ) শাহজাহান ফকির এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তৎকালীন সদস্য (অর্থ) নাজমুস সায়াদাত।

সূত্র জানায়, এই তিন কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে অবৈধ পন্থায় মোটা অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে এএইচএম রাশেদকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দিতে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকে ম্যানেজ করেন। মোটা অঙ্কের ঘুষের এই টাকা মূলত ময়মনসিংহে নির্মাণাধীন ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঠিকাদার হারবিন ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে প্রকল্প পরিচালক রেজাউল কবীর ও শাহজাহান ফকির সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর বিনিময়ে হারবিন ইঞ্জিনিয়ারিংকে অবৈধ সুবিধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

উক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমারটি (২৪০ এমভিএ, ১৩২ কেভি) নষ্ট অবস্থায় সরবরাহ করা হলেও ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষ আরপিসিএল বোর্ডের কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আরইবি সদস্য (অর্থ) নাজমুস সায়াদাতের অনুমোদনক্রমে মেরামত করে পুনরায় সরবরাহের জন্য ঠিকাদারকে অবৈধ সুবিধা প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আর এই প্রক্রিয়ায় প্রকল্প পরিচালক রেজাউল কবীর ও শাহজাহান ফকির সরাসরি জড়িত বলে সূত্র জানায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিনষ্ট ট্রান্সফরমার মেরামত করে পুনরায় সরবরাহ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইঞ্জিনিয়ারিংকে অবৈধ সুবিধা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় এই চক্রটি বলে অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি সাধন করে প্রকল্প পরিচালক রেজাউল কবীর ও জেনারেল ম্যানেজার শাহজাহান ফকির ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে অবৈধ পন্থায় এএইচএম রাশেদকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ। এর পুরস্কার হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক রেজাউল কবীরকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেন নতুন এমডি এএইচএম রাশেদ।

অভিযোগ রয়েছে, মাত্র দুই মাসের মাথায় তাকেই আবার প্রধান প্রকৌশলীর পদ থেকে নির্বাহী পরিচালক (ওএন্ডএম) হিসেবে পদোন্নতি দেন এমডি এএইচএম রাশেদ। অন্যদিকে কর্মকর্তা শাহজাহান ফকির জেনারেল ম্যানেজার পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) পদে দায়িত্ব পান। সব মিলিয়ে অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে এই তিন কর্মকর্তা মিলে আরপিসিএলকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। এএইচএম রাশেদ এমডি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রায় সব ক্ষেত্রেই আরপিসিএলের পারফরম্যান্স কমতে থাকে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে ভেঙে পড়ে চেইন অব কমান্ড। সব মিলিয়ে আরপিসিএলে স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে অভিযোগ। এতে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

আরপিসিএলের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএইচএম রাশেদের কক্ষে রেজাউল কবীর ও শাহজাহান ফকির ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দেওয়ার ফলে আরপিসিএলের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোর জরুরি কাজের জন্য নথি স্বাক্ষর করতে গেলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। ফলে সব কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আরপিসিএল, আরএনপিএল ও বিপিইএমসি—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ, এমনকি কারিগরি বিষয়ের ক্ষেত্রেও, ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) শাহজাহান ফকিরের সঙ্গে পরামর্শ করার পর সিদ্ধান্ত নেন এমডি রাশেদ। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও এএইচএম রাশেদকে এমডি পদে বসানোর ফলে ওই দুজনের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া কোনো কাজ করার দক্ষতা কিংবা মনোবল নেই তার মধ্যে বলে অভিযোগ।

আরএনপিএলের ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা সরবরাহের জন্য বেআইনিভাবে একক দরপত্রের মাধ্যমে ‘পিটি সাম্পার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের কার্যাদেশ প্রদান করেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত এমডি নাজমুস সায়াদাত। পরবর্তীতে ওই প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কয়লা সরবরাহ করায় একপর্যায়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। উক্ত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘পিটি সাম্বার’ থেকে বর্তমান এমডি রাশেদ ও শাহজাহান ফকির প্রতি টন কয়লার জন্য নির্দিষ্ট হারে অবৈধ সুবিধা নিয়ে এই নিম্নমানের কয়লা নিতে আরএনপিএলকে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও খারাপ কয়লার কারণে প্রায় ছয় লাখ টন সরবরাহের পর কয়লা সরবরাহ স্থগিত রাখা হয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, উক্ত কয়লা ক্রয়ের প্রক্রিয়ায় কোনো নিয়মনীতি না মেনে তখনকার আরইবির পরিচালক (অর্থ) নাজমুস সায়াদাতকে মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক করা হয় এবং ড. ইউনূস সরকারের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তড়িঘড়ি করে এই চুক্তি সম্পন্ন করা হয়।

ময়মনসিংহ ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাস টারবাইন-৪ বিনষ্ট হয়ে দীর্ঘ ১৪ মাস বন্ধ থাকে (মার্চ ২০২৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত)। এতে আরপিসিএলের প্রায় ১১০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়। অথচ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্ল্যান্ট ইনচার্জ ও বর্তমান এমডি রাশেদ ওই ১৪ মাস দায়িত্বে ছিলেন। আরপিসিএলে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান প্রকৌশলীর দুটি পদ শূন্য রেখে নিজের পছন্দের লোকজনকে দায়িত্ব দেওয়ায় আরপিসিএলের কার্যক্রমে ধস নেমেছে বলে অভিযোগ। এতে চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রই প্রায় বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। ময়মনসিংহ ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। গাজীপুর ১০৫ মেগাওয়াট, ৫২ মেগাওয়াট ও রাউজান ২৬ মেগাওয়াট—এই তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কেন সামর্থ্য অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) পদে নিয়োগের জন্য ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে আরপিসিএল বোর্ডের সিদ্ধান্ত থাকলেও এখন পর্যন্ত বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে শাহজাহান ফকিরকে অতিরিক্ত দায়িত্বে রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, শাহজাহান ফকিরের যোগ্যতা না থাকায় এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হচ্ছে না। কারণ হিসেবে জানা গেছে, শাহজাহান ফকির সান্ধ্যকালীন এমবিএ (অ্যাকাউন্টিং) কোর্সে ভর্তি হয়েছেন। পাস করতে যতদিন সময় লাগে, ততদিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে তাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চলতি দায়িত্বে রাখা হচ্ছে। এতে সহযোগিতা করছেন আরপিসিএল এমডি রাশেদ এবং আরইবি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এসএম জিয়া-উল-আজিম বলে অভিযোগ।

সম্প্রতি আরপিসিএলের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পদে নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীকে অবৈধভাবে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য প্রশ্ন ফাঁস করা হয় বলে অভিযোগ। প্রশ্ন ফাঁস এবং জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বিশাল অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে পদোন্নতি দেওয়ায় আরপিসিএলের প্রকৌশলীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, নির্বাহী প্রকৌশলীর তিনটি শূন্য পদে ১:৩ অনুপাতে নয়জনকে পরীক্ষার জন্য ডেকে প্রশ্ন ফাঁস করে জ্যেষ্ঠতা ভেঙে অর্থের বিনিময়ে পদোন্নতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আবার উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর ছয়টি পদের বিপরীতে ১:৩ অনুপাতে না ডেকে ১:৪.২ অনুপাতে ২৬ জনকে পরীক্ষায় ডেকে প্রশ্ন ফাঁস করে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের ঘুষের বিনিময়ে জ্যেষ্ঠতা ভেঙে পদোন্নতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এতে সিনিয়র প্রকৌশলীরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিতে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, এসব নিয়োগ কমিটিতে নির্বাহী পরিচালক (পিএন্ডডি) নাঈমকে বাদ দিয়ে নির্বাহী পরিচালক (ওএন্ডএম) রেজাউল কবীরকে রাখা হয়। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, তিনি এমডি রাশেদের বন্ধু। আরপিসিএলের ময়মনসিংহ বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, রাশেদ ও রেজাউল কবীর দুজনই তৎকালীন সরকারের গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাদের তিনজনের বাড়িই ময়মনসিংহ শহরে।

ময়মনসিংহে নির্মাণাধীন ৩৬০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মাদারগঞ্জে নির্মাণাধীন ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ প্রায় দুই বছর বিলম্ব হওয়ায় আরপিসিএল আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ফেরদৌসকে শাস্তি দেওয়া হলেও ৩৬০ মেগাওয়াটের প্রকল্প পরিচালক রেজাউল কবীরকে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থেকে প্রধান প্রকৌশলী এবং এর দুই মাসের মাথায় নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে কৃচ্ছ্রসাধনের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও চারটি নতুন পাজেরো জিপ কিনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নির্বাহী পরিচালক এবং জেনারেল ম্যানেজার (অর্থ) শাহজাহান ফকির ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ। এমনকি ব্যক্তিগত কাজেও ইচ্ছেমতো ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ।

শাহজাহান ফকিরকে আরপিসিএলের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বিপিইএমসিতে দীর্ঘদিন ধরে সিএফওর অতিরিক্ত দায়িত্বে রাখা হয়েছে। প্রায় ছয় বছর ধরে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। অথচ ওই কোম্পানিতে গত দুই বছর ধরে কোনো কাজকর্ম নেই। শুধুমাত্র চীনা প্রতিষ্ঠান ‘সেনজেন স্টার’-এর সঙ্গে মিলেমিশে অর্থ নয়ছয় করার জন্যই শাহজাহান ফকির কোনোভাবে দায়িত্ব ছাড়তে রাজি নন বলে অভিযোগ।

বর্তমানে শাহজাহান ফকির আরপিসিএল, আরএনপিএল ও বিপিইএমসির অলিখিত কর্ণধার বলে অভিযোগ। সুতরাং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নির্বাহী পরিচালক ও প্রকৌশলীরাও জেনারেল ম্যানেজার (অর্থ) শাহজাহান ফকিরের পরামর্শ নিয়ে কারিগরি দিকসহ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ।

এদিকে বিপিইএমসি বা বাংলাদেশ পাওয়ার ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘ দুই বছর ধরে কোনো কাজকর্ম না থাকলেও আরইবির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল জিয়া-উল-আজিমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে এই প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (কারিগরি) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। আরইবির চেয়ারম্যান জিয়া-উল-আজিমের বন্ধু মেজর (অব.) মো. কবীরুল ইসলাম গত প্রায় দুই বছর ধরে বিপিইএমসির মহাব্যবস্থাপক (কারিগরি) পদে থেকে বেতন-ভাতাসহ সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন। কিন্তু কোনো কাজকর্ম নেই বলে অভিযোগ।

আদতে সব মিলিয়ে গড়ে ওঠা এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান আরপিসিএলকে গিলে খাচ্ছে বলে অভিযোগ।