শনিবার ১৮ জুলাই দুপুর ১২টা ৩০ উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমদ। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শফিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন হীরা, যুববিষয়ক সম্পাদক কাওছার রশীদ বাবু, সিনিয়র সহসভাপতি আবুল মোহসেন খান এবং আহত জুলাই যোদ্ধা ভাস্কর আহমদ ও লিটন পাটোয়ারী। সভায় বক্তব্য দেন জকিগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা মারুফ খানও। উপজেলা বিএনপির কমিটিতে তাঁর কোনো পদ-পদবি না থাকলেও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান জানান, মারুফ খান তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং তিনি জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করেন। মারুফের ব্যক্তিগত গুণাবলি বিএনপিকে আরও উজ্জ্বল করবে উল্লেখ করে তাঁকে অচিরেই দলের নেতৃত্বস্থানীয় কোনো পদে দেখতে চান বলেও জানান তিনি।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মারুফ খানের বিরুদ্ধে ভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের দাবি, মারুফ খান অতীতে জকিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. লোকমান উদ্দিন চৌধুরীর ছত্রচ্ছায়ায় সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সুনামগঞ্জ থানায় আব্দুল জব্বারের দায়ের করা একটি মামলায় মারুফ খানের প্রায় চার বছরের কারাদণ্ড হয়। পরবর্তী সময়ে জকিগঞ্জের বাসিন্দা আলা উদ্দিন চৌধুরীর দায়ের করা আরেকটি মামলায় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জামিনে মুক্তি পান।
জকিগঞ্জ বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মারুফ খান চাঁদাবাজি করছেন।
জকিগঞ্জ বাজারে অবস্থিত নির্মাণপ্রতিষ্ঠান মেসার্স চৌধুরী বিল্ডার্সের মালিক আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী অভিযোগ করেন, মারুফ খান ২০২৩ সাল থেকে আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে তাঁর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতেন। বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে একই কাজ করছেন। তিনি বলেন, দল বদলেছে, কিন্তু সন্ত্রাসী একই।
একই ধরনের অভিযোগ করেন জকিগঞ্জ বাজারের আহমদ ট্রেডার্সের মালিক মতিন আহমদ। তাঁর অভিযোগ, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে মারুফ খান, জকিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম আহমদ এবং যুবদলের কয়েকজন কর্মী তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এসে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা মতিন আহমদকে সেখানেই মারধর করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর জকিগঞ্জ থানায় গেলেও রাজনৈতিক চাপের কারণে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
চাঁদাবাজি ও অভিযোগের পরও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়ে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট সদরের বস্ত্র ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান, সুনামগঞ্জের চিনামাটির পণ্য প্রস্তুতকারক নজরুল ইসলাম তালুকদার, ওসমানীনগরের নির্মাণশ্রমিক সরবরাহ ব্যবসায়ী কাদির সিদ্দিকী এবং বিয়ানীবাজারের কৃষিখামারের মালিক ইমরান মোহসেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে, মারুফ খানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান তা প্রত্যাখ্যান করেন।
মারুফ খানের বিষয়ে তিনি বলেন, “মারুফ খান আমার ছেলের মতো। আমি তাকে সৎ ও নির্দোষ বলেই জানি। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা এটা সহ্য করতে পারছে না যে তাদের আগের একজন সমর্থক এখন সংস্কারের কাজে নিবেদিত। যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, “বিএনপি গত কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগের চাঁদাবাজির বিরোধিতা করে এসেছে। এখন কেউ যদি অভিযোগ করে যে আমাদের যুব সংগঠনের কর্মীরাও আওয়ামী লীগের মত একই কাজ করছে তাহলে তা হাস্যকর।