ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০২:২২:৫৩ PM

মনিরা হককে ঘিরে বিতর্ক ও বিভিন্ন অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।। করাপশনমিরর.কম
02-07-2026 06:15:39 AM
মনিরা হককে ঘিরে বিতর্ক ও বিভিন্ন অভিযোগ

ফেনীর বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) মনিরা হককে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে নানা অভিযোগ ও বিতর্কের আলোচনা চলছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে তাঁর অতীত প্রশাসনিক দায়িত্ব, পদায়ন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক প্রভাব এবং জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্ত বা আদালতের রায় প্রকাশিত হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মনিরা হক দীর্ঘ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের ইমিগ্রেশন শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। সমালোচকদের দাবি, ওই সময় তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল-এর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একই সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য ও আমলা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম-এর সুপারিশে তিনি পরশুরাম উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে নিয়োগ পান এবং পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়ন লাভ করেন—এমন দাবিও বিভিন্ন মহলে প্রচলিত রয়েছে।

২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর চারটি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের পর মনিরা হককে ফেনীর জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়। পরদিন কয়েকটি গণমাধ্যমে এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন ও রাজনৈতিক বিবেচনার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চারজন কর্মকর্তার মধ্যে মনিরা হকও ছিলেন একজন, যাঁদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিতও হয়নি।

ফেনীতে যোগদানের পর তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগও ওঠে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, কৃষিজমি রক্ষা, অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন, নদী ও খাল রক্ষা, অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের কার্যকর প্রয়োগে জেলা প্রশাসনের ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়েছে। সমালোচকদের দাবি, এ কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ভূমিদস্যু ও প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে প্রশাসনের কিছু অংশের যোগসাজশের কারণে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। একটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকাজে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিয়েও অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তে প্রমাণিত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশিত হয়নি।

মনিরা হকের অতীত কর্মজীবন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। তিনি ২০১৬–২০১৭ সালে পরশুরাম উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ওঠে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইমিগ্রেশন শাখায় দীর্ঘ সময় কর্মরত ছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি কিছু সময় প্রকাশ্যে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন না বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়। পরে অন্তর্র্বতী সরকারের সময় তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ফেনীর জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান।

এদিকে অন্তর্র্বতী সরকারের সময় জেলা প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচিত হয়। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের খবর প্রকাশিত হলেও তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে মনিরা হককে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোরও কোনো চূড়ান্ত সরকারি নিষ্পত্তি বা বিচারিক সিদ্ধান্ত জনসমক্ষে আসেনি।

সার্বিকভাবে, মনিরা হককে ঘিরে যে অভিযোগগুলো বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে, সেগুলোর অনেকই এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন সম্ভব।