ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৩:২০:৫১ PM

থামেনি মাদারীপুরের মোটরযান পরিদর্শক

স্টাফ রিপোটার।। করাপশনমিরর.কম
08-08-2026 08:16:41 AM
থামেনি মাদারীপুরের মোটরযান পরিদর্শক

ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাদারীপুর সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক সামসুদ্দীন আহম্মেদের। এরই মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তির মুখোমুখি হলেও নতুন করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ঘুষ গ্রহণ, গ্রাহক হয়রানি ও নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সামসুদ্দীন আহম্মেদের বক্তব্য জানা যায়নি।

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল মাদারীপুর সদর উপজেলার আলীর বাজার গ্রামের মাস্টারবাড়ির মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে সামসুদ্দীন আহম্মেদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি, নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায় এবং মোটরযানের ফিটনেস সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের হয়রানি করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, সামসুদ্দীন আহম্মেদের বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে তার নিজ নামে ও বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বিলাসবহুল যানবাহনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারী এসব সম্পদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দলিল বা তথ্য-প্রমাণ অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করেননি।

অভিযোগটি অনুসন্ধান ও তদন্তের উদ্যোগ হিসেবে গত ২৩ জুলাই বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের কাছে একটি চিঠি পাঠায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তদন্ত ও শৃঙ্খলা শাখা। সিনিয়র সহকারী সচিব এস এম শান্তুনু চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই চিঠির স্মারক নম্বর ৩৫.০০.০০০০.০০০.০২৮.২৭.০০১৭.২৩.১৫৭।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, সামসুদ্দীন আহম্মেদ ঢাকার মেট্রো-৪ সার্কেলে কর্মরত থাকার সময় ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘৬ ঘণ্টায় ১২শ ফিটনেস সনদ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে বিআরটিএ দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পাশাপাশি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তৎকালীন উপসচিব মো. মনিরুল আলমও পৃথক একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সূত্রের দাবি, উভয় তদন্ত প্রতিবেদনে সামসুদ্দীন আহম্মেদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং কর্তৃপক্ষের আইনসংগত আদেশ অমান্যের বিষয় উল্লেখ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর তাকে মাদারীপুর সার্কেলে বদলি করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নম্বর ২৫/২০২৩ দায়ের করা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর বিআরটিএর তৎকালীন চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দীন আহমেদ তিন সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে মোটরযান পরিদর্শন না করে ফিটনেস সনদ প্রদান, মোটরযানের সঙ্গে পরিদর্শকের ছবি না তোলা এবং সংশ্লিষ্ট মোটরযান বাস্তবে উপস্থিত থাকার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণক উপস্থাপন করতে না পারার মতো অনিয়মের বিষয় উঠে আসে।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর বিআরটিএর তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রজ্ঞাপন জারি করে সামসুদ্দীন আহম্মেদকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩২(ক)(আ) ধারা এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করেন। একই বিধিমালার বিধি ৪(২)(খ) অনুযায়ী তাকে দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের শাস্তি দেওয়া হয়। ওই দণ্ডাদেশ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।

এদিকে, ২০২৫ সালের ১৮ এপ্রিল মাদারীপুর বিআরটিএ সার্কেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেন জেলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

নতুন অভিযোগের পর সামসুদ্দীন আহম্মেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো কতটা সত্য, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পরিষ্কার হবে।