ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৪:৩৭:৫৮ PM

নামে-বেনামে ৫০ কোটি টাকা আতীকুজ্জামানের

স্টাফ রিপোটার।। করাপশনমিরর.কম
08-08-2026 07:58:35 AM
নামে-বেনামে ৫০ কোটি টাকা আতীকুজ্জামানের

আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগ ঘষলেই গুপ্তধন মিলত—গল্পে এমনটাই বলা হয়। তবে বাস্তব জীবনে কোনো চেরাগ ছাড়াই সরকারি চাকরির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট, ঢাকার প্রমোটি সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আতীকুজ্জামানের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি শুরু করে পদোন্নতির মাধ্যমে বর্তমানে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ আতীকুজ্জামান। অভিযোগ রয়েছে, চাকরি জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বের অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে জানা যায়, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় আতীকুজ্জামান ও তাঁর পরিবারের নামে প্রায় ৪৪০ শতাংশ বা ৪.৪ একর জমি, একাধিক ফ্ল্যাট ও স্থাপনার তথ্য রয়েছে। এসব সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ২৫ থেকে ৩৫ কোটি টাকা বা তারও বেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তবে সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণে সরকারি নথি ও বাজারমূল্য যাচাই প্রয়োজন।

১৯৭৩ সালের ১ এপ্রিল জন্ম নেওয়া মোহাম্মদ আতীকুজ্জামান শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার কলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর এবং স্ত্রী মোছা. আশরাফুন্নাহারের নামে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভাটারা মৌজায় ৩৭ শতাংশ জমিসহ একটি ফ্ল্যাট, বনশ্রী প্রকল্পের ই/১১ নম্বর প্লটে ৯১ শতাংশ জমির অংশীদারিত্বসহ ১১০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট এবং রামপুরার উলন রোডে ৬০ শতাংশ জমির অংশীদারিত্বসহ ১৩০০ বর্গফুটের আরেকটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া মোহাম্মদপুরের রামচন্দ্রপুর মৌজায় ১১১ ও ৫০ শতাংশ জমির অংশীদারিত্বসহ দুটি ফ্ল্যাট, খিলগাঁওয়ের উত্তর মেরাদিয়ায় সাড়ে ৩ শতাংশ জমির ওপর একটি বাড়ি, যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে ৫.৫ শতাংশ জমির ওপর ১১টি টিনশেড ঘর এবং সাভারের বারোকাকোর এলাকায় ৮ শতাংশ জমির একটি প্রকল্পভূমির তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর বাইরে শেরপুরের নকলা উপজেলার কলাপাড়া মৌজায় ২৭৭ শতাংশ ও সাড়ে ৩ শতাংশ জমি, বাজারদী এলাকায় সাড়ে ৭ শতাংশ এবং কায়দা মৌজায় ৪০ শতাংশ জমির মালিকানার তথ্য রয়েছে। পাশাপাশি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ১১২ শতাংশ কৃষি ও অকৃষি জমির তথ্যও পাওয়া গেছে।

বর্তমানে আতীকুজ্জামান কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট, ঢাকায় কর্মরত। এ দপ্তরের অন্যতম দায়িত্ব আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক মূল্য নির্ধারণ, আন্ডার-ইনভয়েসিং প্রতিরোধ এবং আমদানিকারকদের অডিট কার্যক্রম পরিচালনা। অভিযোগকারীদের দাবি, এ ধরনের দায়িত্ব পালনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনৈতিকভাবে সম্পদ অর্জন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, কিছু সম্পত্তি তাঁর স্ত্রী মোছা. আশরাফুন্নাহারের নামে নিবন্ধিত। তাঁর নিজস্ব ও উল্লেখযোগ্য আয়ের উৎস এবং এসব সম্পত্তি অর্জনের অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা দরকার বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আতীকুজ্জামান অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে পরে কথা বলার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত এবং তাঁর সব সম্পদের তথ্য আয়কর নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগে উল্লিখিত সম্পদের তথ্য সত্য হলে সম্পদের উৎস ও বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের সম্পদ বিবরণী, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিও পরীক্ষা করা যেতে পারে।

এ অবস্থায় আতীকুজ্জামান ও তাঁর পরিবারের সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, সম্পত্তির দলিল এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানই এখন মূল বিষয়।