ঢাকা, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৩:১৬:০৭ PM

কানাইঘাটে পুলিশের অভিযানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

স্টাফরিপোটার।।করাপশনমিরর.কম
20-09-2022 09:49:00 AM
কানাইঘাটে পুলিশের অভিযানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

সিলেট: সোমবার, ১৯/০৯/২০২২ তারিখে কানাইঘাট থানা পুলিশ জামায়াতে ইসলামীর কানাইঘাট শাখা কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য ফজলুল হক (৫১), আব্দুল বেপারী (৪৭), মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম (৪৬), এহসানুল করিম (৬২) এবং মোঃ আব্দুল মোমিন (৪৯) রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা হলেন বেলাল মাহমুদ (২৫), জুনায়েদ আহমেদ (২৩) এবং খালেদ রহমান (৩১)। কানাইঘাট থানার অফিসার-ইন-চার্জ লোকমান হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি লোকমান হোসাইন আরও জানান, অভিযান চলাকালে আসামি বেলাল মাহমুদ পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করতে গিয়ে কানাইঘাট থানার উপ-পরিদর্শক মুহাম্মদ জিলানী তার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। বেলাল মাহমুদকে আটক করা সম্ভব হলেও জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের আরও কয়েকজন কর্মী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

ওসি লোকমানের ভাষ্যমতে, কানাইঘাটের বাসিন্দা মোঃ আব্দুর রশিদ ও তার ছেলে কামরান আহমেদের দায়ের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযোগে বলা হয়, তাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ছাত্রশিবিরে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর কামরান আহমেদকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ছাত্রশিবির নেতা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধেও থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। মিজানুর রহমান অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ছাত্রশিবির কর্মীদের একজন এবং তিনি এখনও পলাতক রয়েছেন।

ওসি লোকমান বলেন, “রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাবে, হয়রানি করবে বা হামলা চালাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “অভিযানের সময় যারা পালিয়ে গেছে, তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা কাজ করছি।”

এদিকে, সিলেট জেলা উত্তর জামায়াতে ইসলামীর আমীর হাফিজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খান সব অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াতের নির্দোষতার দাবি করেন।

মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খান বলেন, “নবী মুহাম্মদ (সা.) যেমন ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে তায়েফে প্রত্যাখ্যাত ও নির্যাতিত হয়েছিলেন, তেমনি আমাদের কর্মীরাও এখন তাদের ইসলামী বিশ্বাসের কারণে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, “এই গ্রেপ্তারের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে এবং আমাদের দল নির্দোষ।”