রাজনৈতিক অঙ্গনে দায়িত্বশীলতা, সাহস ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ঢাকার রাজনীতিতে ইশরাক হোসেনের প্রভাব দিন দিন বাড়ছে। কর্মী-সমর্থকদের কাছে তিনি একজন সক্রিয় ও কৌশলী নেতা হিসেবে পরিচিত। আন্দোলন-সংগ্রামের মাঠে সক্রিয় ভূমিকা এবং দলের নেতা-কর্মীদের পাশে থাকার কারণে রাজধানীতে তাঁর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে বলে মনে করছেন তাঁর অনুসারীরা।
প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যেরও প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। তবে নিজের কর্মদক্ষতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি আলাদা একটি অবস্থান তৈরি করেছেন। দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে ইশরাক হোসেনকে। তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য, রাজনৈতিক কারণে তিনি মামলা ও কারাবরণের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এমনকি তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা বা হত্যাচেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি বলে দাবি তাঁর অনুসারীদের। বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের সময় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি দলীয় কর্মীদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।
বর্তমানে সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি দলীয় কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন ইশরাক হোসেন। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ছয় মাসে তাঁর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে—এমন দাবি তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মীদের। তাঁদের মতে, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক বিষয়েও তিনি সময় দিচ্ছেন। সরকারি দায়িত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করার চেষ্টা করছেন তিনি।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার নেতা-কর্মীরাও নিয়মিত তাঁর কাছে নানা সমস্যা ও দাবি নিয়ে আসছেন। সময়ের সীমাবদ্ধতা থাকলেও তাঁদের কথা শোনা এবং সম্ভব হলে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা। দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও তিনি কাজ করছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন নেতার জনপ্রিয়তা শুধু পদ বা ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না; মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ, সংকটে পাশে থাকা এবং দায়িত্ব পালনের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় ইশরাক হোসেনের সক্রিয়তা তাঁকে রাজধানীর রাজনীতিতে আরও পরিচিত করে তুলছে।
আগামী দিনগুলোতে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা ধরে রাখতে আরও বেশি সময় মাঠে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ইশরাক হোসেনের। দলীয় দায়িত্ব, সরকারি দায়িত্ব এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—এই তিনটি ক্ষেত্র সমন্বয় করে কাজ করতে পারলে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থকেরা। রাজধানীর রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে যেতে চান ইশরাক হোসেন।