ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
সময়: ০৭:৪২:৩৬ PM

জে.আই. ইমপেক্সে ভ্যাট ফাঁকি, জব্দ নথি

স্টাফ রিপোটার।। করাপশন মিরর.কম
28-09-2026 01:01:00 PM
জে.আই. ইমপেক্সে ভ্যাট ফাঁকি, জব্দ নথি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জে.আই. ইমপেক্স লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিকভাবে ৩৫ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৮ টাকার মূসক (ভ্যাট) ফাঁকি উদঘাটন করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পূর্ব)। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও আর্থিক নথিপত্রসহ একটি কম্পিউটার সিপিইউ জব্দ করা হয়েছে।

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভৈরবের পশ্চিম বাজার এলাকায় অবস্থিত জে.আই. ইমপেক্স লিমিটেডে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঢাকা (পূর্ব) কমিশনারের নির্দেশে যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে সদর দপ্তর ও নরসিংদী ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রিভেন্টিভ দল এ অভিযানে অংশ নেয়।

অভিযান চলাকালে মূসক ১২.৩-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আর্থিক নথি জব্দ করা হয়। জব্দ করা নথির মধ্যে রয়েছে ১২টি ক্লিপ ফাইল, বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিলের পাঁচ বান্ডিলে থাকা ৯৮টি নথি এবং ২২টি প্লাস্টিক ফোল্ডার। এ ছাড়া একটি সিপিইউও জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে আরও জব্দ করা হয় চারটি টালি খাতা ও চারটি রেজিস্টার। পাশাপাশি ট্রাক ভাড়া সংক্রান্ত একটি বান্ডেল নথি, দুটি মেমো ফাইল, ট্রাকচালকদের খরচের বিবরণসংবলিত ১০ বান্ডেল নথি এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত কম্পিউটার প্রিন্টেড বিক্রয় দলিল জব্দ করা হয়।

অভিযান শেষে জব্দ করা নথিপত্র ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করেন। পর্যালোচনায় ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাসভিত্তিক পণ্য সরবরাহের ৭২টি ফোল্ডার ও নথি পাওয়া যায়। এসব নথিতে প্রতিষ্ঠানের পণ্য সরবরাহের কাঁচা চালান ও বিক্রয়ের বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত ছিল।

ভ্যাট বিভাগের যাচাই-বাছাইয়ে এসব নথিপত্রে মোট ৬২১ কোটি ৭৪ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৪ টাকা বিক্রয়ের তথ্য পাওয়া যায়। নথিতে থাকা বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও যাচাই করে প্রাথমিকভাবে ৩৫ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৮ টাকার মূসক ফাঁকি উদঘাটন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পূর্ব)।

কর্মকর্তারা জানান, জব্দ করা নথিপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও মূসক-সংক্রান্ত হিসাব যাচাই করা হয়েছে। প্রাথমিক যাচাইয়ে বিপুল অঙ্কের বিক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেলেও তার বিপরীতে প্রযোজ্য মূসক পরিশোধ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই প্রাথমিকভাবে ৩৫ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৮ টাকার মূসক ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় জে.আই. ইমপেক্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে মূসক ফাঁকির মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পূর্ব)।

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জব্দ করা নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্য আরও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে মূসক ফাঁকির পরিমাণ বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্যের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।