ঢাকা, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬,
সময়: ০২:১৪:৪৩ PM

ঢাকা এলএ শাখায় আফজালের দাপট

স্টাফ রিপোটার।। করাপশন মিরর.কম
03-10-2026 01:17:00 PM
ঢাকা এলএ শাখায় আফজালের দাপট

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখা-২-এর সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী জমির মালিকদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

একাধিক সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, আফজাল হোসেনকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ফাইলের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কমিশন না দিলে ফাইল আটকে রাখা বা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

বদলির পরও ফিরেছেন একই দপ্তরে
অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, অনিয়মের অভিযোগের পর একপর্যায়ে আফজাল হোসেনকে ঢাকা এলএ শাখা থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। তবে বদলির প্রায় চার মাসের মধ্যেই তিনি আবার ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে আসেন বলে জানা গেছে। তার এই পুনর্বদলিকে ঘিরেও নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে এলএ শাখা-২-এ কর্মরত থেকে তিনি আগের মতোই প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তাদের দাবি, একটি নির্দিষ্ট চক্রের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।

সম্পদ নিয়ে নানা প্রশ্ন
আফজাল হোসেনের সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি চাকরিতে একজন সাধারণ সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত থাকলেও তার নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, প্লট এবং ব্যবসায়িক সম্পদ রয়েছে।

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় তার নামে বা ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে—এমন দাবিও করেছেন অভিযোগকারীরা। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, অর্থের উৎস এবং বৈধতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারীরা বলছেন, তার নামে থাকা সম্পদ ও আয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।

দুদকের মামলা নিয়ে অভিযোগ
আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত একটি বড় প্রকল্পে কয়েক শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। মামলাটির প্রকৃতি, বর্তমান অবস্থা ও অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, মামলা হওয়ার পর নিজেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন মহলে তদবির এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন আফজাল। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতে ভোগান্তি
ভুক্তভোগী জমির মালিকদের অভিযোগ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের পর ন্যায্য ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ফাইল আটকে রেখে বারবার দপ্তরে আসতে বলা হয়। পরে কথিত কমিশন বা ঘুষের দাবি পূরণ করা হলে ফাইলের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়া তাদের আইনগত অধিকার হলেও বিভিন্ন অজুহাতে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তার কারণে তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি।

তদন্তের দাবি
সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের দাবি, আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি দপ্তরে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারও দাবি উঠেছে।

আফজালের বক্তব্য
সার্ভেয়ার আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, সম্পদ অর্জন ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে সংযোজন করা হবে।