দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩৬ জন। এ নিয়ে চলতি বছর, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৩ জনে। আর এ সময় পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৭৫ হাজার ৭৩০ জন।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া আটজনের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে একজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৮ দিনেই ডেঙ্গুতে ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় বেশি। আগস্টে ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিলেন ৪৩ জন। এর আগে জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অর্থাৎ, বছরের শুরুতে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও বর্ষা মৌসুমের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের ২৮ দিনেই মোট মৃত্যুর ১৩৬টি ঘটনা ঘটেছে, যা ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২ হাজার ৩৬ জন নতুন রোগীসহ চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৭৩০ জনে। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৬৪ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭০ হাজার ২৫৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। ২০২৫ সালে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ওই বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ৪১৩ জনের। বিপরীতে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাস শেষ হওয়ার আগেই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ২৩৩ জনে পৌঁছেছে। তবে ২০২৬ সালের পূর্ণ বছরের পরিসংখ্যান পেতে বছর শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ডেঙ্গু সাধারণত এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বর্ষাকালে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন বাড়ার ফলে ডেঙ্গুর সংক্রমণও বেড়ে যেতে পারে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় মশা নিয়ন্ত্রণ, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং ডেঙ্গু রোগীদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার তথ্য বলছে, ডেঙ্গু এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা অব্যাহতভাবে বাড়ছে। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে মোট ২৩৩ জনের মৃত্যু এবং ৭৫ হাজার ৭৩০ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের ২৮ দিনেই ১৩৬ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান প্রকোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে।