আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু এবং সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান তুহিনসহ জেলা যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রাজা।
সাবেক আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট একজন নেতার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জেলা যুবদলের সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান তুহিন বলেন,
“রাজা ভাই আগে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তিনি কখনো কোনো ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা নষ্ট হওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যতে তাঁকে যুবদলের নেতৃত্বের ভূমিকায় দেখতে চাই।”
তবে আব্দুর রাজ্জাক রাজা জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং অবৈধভাবে সম্পত্তি দখলের অভিযোগে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার প্রধান আসামি। এসব মামলায় তিনি, তাঁর ছেলে আদনান রাজ্জাকসহ আরও কয়েকজন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে একই বছরের মে মাসে তারা জামিন লাভ করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু বলেন,
“এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। রাজা ভাই এমন কোনো কাজ করেননি। তিনি এ ধরনের মানুষ নন। জুলাই আন্দোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেক সাবেক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই অসংখ্য মামলা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো দেশের মানুষের স্বার্থে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল গড়ে তুলতে কাজ করছে। অতীতে যে দলেই রাজনীতি করে থাকুন না কেন, সৎ ভাবমূর্তি ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যুবদলে স্বাগত জানানো হবে। তবে কোনো ধরনের অপরাধ বা অনিয়মে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের পাশে দাঁড়াবে না যুবদল।
আব্দুর রাজ্জাক রাজা বলেন,
“আমার কাজ এখনো শেষ হয়নি। মহান আল্লাহর রহমতে আমি আরও বহু বছর দেশের সেবা করে যেতে চাই।”
তবে তাঁর ও তাঁর ছেলে আদনান রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।