ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ১০:১১:২৭ PM

বিএনপিকেই ভালবাসেন এমনই ক”জন নেতা

মান্নান মারুফ
08-08-2026 02:15:26 PM
বিএনপিকেই ভালবাসেন এমনই ক”জন নেতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়া নেতাদের নিয়ে যেমন আলোচনা রয়েছে, তেমনি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ও পরীক্ষিত কয়েকজন নেতার মন্ত্রিসভায় না থাকা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নুল আবদিন ফারুক, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের মতো নেতাদের নাম এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে।

তবে মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া মানেই দলীয়ভাবে মূল্যায়ন না করা—এমন সরল সমীকরণও টানছেন না সংশ্লিষ্ট অনেক নেতা। বরং বিএনপির নেতাদের একটি অংশ মনে করছেন, সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে সাংগঠনিক ও সরকারি বিভিন্ন দায়িত্বের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হতে পারে। ইতোমধ্যে রুহুল কবির রিজভীকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্যেও তার এই দায়িত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার কথাও শোনা যাচ্ছে ।

তবে মন্ত্রিসভার বাইরে থাকা অন্য পরীক্ষিত নেতাদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থেকে মামলা, গ্রেপ্তার, হামলা, কারাভোগ ও রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা নেতাদের অনেকে প্রত্যাশা করছেন, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে।

মির্জা আব্বাস

মির্জা আব্বাস ঢাকার রাজনীতির অন্যতম পরিচিত ও পরীক্ষিত নেতা। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাকে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নিপীড়ন, মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগের মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এমনকি জীবনের কঠিন সময়ে তিনি তার বৃদ্ধ মাকেও হারিয়েছেন। ব্যক্তিগত শোক ও রাজনৈতিক চাপ—দুইয়ের মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেননি।

বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সংকটময় সময়ে মির্জা আব্বাসকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। রাজপথের কর্মসূচি থেকে শুরু করে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম—বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। মামলা, গ্রেপ্তার কিংবা রাজনৈতিক চাপ তাকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরিয়ে দিতে পারেনি।

বিএনপির কঠিন সময়ে দলকে সংগঠিত রাখা এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকার কথা দলটির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে স্মরণ করে আসছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের প্রতি তার আনুগত্য ও সক্রিয়তা বিএনপির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

মির্জা আব্বাসের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ত্যাগ, সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা দলের নেতাকর্মীদের কাছে নিঃসন্দেহে স্মরণীয়। বিএনপির রাজনীতিতে তার অবদান দলটির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন মনে রাখবেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দীর্ঘদিন ধরে দলটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিরোধী দলে থাকা সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে সামনের সারিতে দেখা গেছে। পুলিশের হামলা, টিয়ারশেল ও গ্রেপ্তারের মতো পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন।

২০২৩ সালে পুরান ঢাকার ধোলাইখালে বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় তিনি আহত হন। ওই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সে সময় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৩ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচন কমিশনের ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ওই আসনে ৯৯ হাজার ১৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরও মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়ায় দলের একটি অংশের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে সরকার গঠনের পর তিনি সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন।

রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির দুঃসময়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকার কারণে রুহুল কবির রিজভী দলের নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত মুখ। বিভিন্ন সময়ে মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগের পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি দলীয় অবস্থান তুলে ধরেছেন।

বিরোধী দলের সময়ে বিএনপির নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের অন্যতম মুখ ছিলেন রিজভী। সরকারবিরোধী আন্দোলন, মামলা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মসূচি ও গণমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন।

তবে রিজভীর ক্ষেত্রে ‘মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি’—এমন বক্তব্য পুরোপুরি সঠিক নয়। তাকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিনি একই সঙ্গে রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অর্থাৎ প্রচলিত অর্থে পূর্ণমন্ত্রী না হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় মন্ত্রী পদমর্যাদার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

শামসুজ্জামান দুদু

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্যতম সোচ্চার বক্তা হিসেবে পরিচিত। টেলিভিশন টকশো, সংবাদমাধ্যম, সভা-সমাবেশ এবং দলীয় কর্মসূচিতে তিনি নিয়মিত বিএনপির অবস্থান তুলে ধরেছেন।

দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থাকার সময়ে মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপের মুখেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। সাম্প্রতিক বক্তব্যেও তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের দীর্ঘ সময়ের নির্যাতন ও রাজনৈতিক বঞ্চনার কথা উল্লেখ করেছেন। জুলাই ২০২৬-এ বাসসকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে নানা ধরনের অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভায় তার স্থান না পাওয়া নিয়ে দলের একটি অংশে আলোচনা থাকলেও, দুদু নিজেও নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্যে ভবিষ্যতে দলের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের প্রত্যাশার বিষয়টি উঠে এসেছে।

জয়নুল আবদিন ফারুক

বিএনপির প্রবীণ নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক সরকারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের হামলায় আহত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার রাজনৈতিক অনুসারীদের একটি অংশ মন্ত্রিসভায় তার অন্তর্ভুক্তি প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়ার পরও ফারুক প্রকাশ্যে হতাশা না দেখিয়ে বিষয়টিকে বড় দলের স্বাভাবিক বাস্তবতা হিসেবে দেখেছেন।

তার বক্তব্য, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল এবং ত্যাগী নেতাকর্মীর সংখ্যা অনেক। সবাইকে একসঙ্গে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়; প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ক্রমে সবাইকে মূল্যায়ন করবেন—এমন বিশ্বাসের কথাই তিনি জানিয়েছেন।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও দীর্ঘদিন ধরে রাজপথ ও গণমাধ্যমে সক্রিয়। সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় টেলিভিশন টকশো ও সভা-সমাবেশে দলীয় বক্তব্য তুলে ধরার পাশাপাশি মাঠের কর্মসূচিতেও তাকে দেখা গেছে।

তার বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক মামলা থাকার কথা বিএনপির বিভিন্ন সূত্র ও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। দীর্ঘ সময় কারাবাস ও রাজনৈতিক হয়রানির মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।

মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলাল অবশ্য হতাশার বদলে ধৈর্যের কথা বলেছেন। তার বক্তব্যের মূল সুর হলো—সরকার গঠনের পরপরই সবাইকে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে বলে তিনি আশা করেন।

হাবিব-উন-নবী খান সোহেল

ঢাকা মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা হাবিব-উন-নবী খান সোহেলও বিএনপির রাজপথের পরিচিত মুখ। বিরোধী দলের সময়ে মামলা, গ্রেপ্তার এবং আত্মগোপনের মধ্যেও তিনি নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখার চেষ্টা করেছেন।

২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার সময় বকশীবাজারের অস্থায়ী আদালতের দিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তার সক্রিয় ভূমিকা আলোচিত হয়েছিল। গত দেড় দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার বড় একটি সময় মামলা ও আদালতকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে কেটেছে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন।

তবে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া এবং পরবর্তীতে মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া নিয়ে তার অনুসারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

খন্দকার আবু আশফাক

বিএনপির ঢাকা জেলা রাজনীতির পরিচিত নেতা খন্দকার আবু আশফাকও দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। দলীয় কর্মসূচিতে তার ভূমিকা এবং দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক চাপের মধ্যে থাকার বিষয়টি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচিত।

বিরোধী দলের সময়ে মামলা ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আত্মগোপনে থাকার অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও ক্ষতির মুখে পড়ার কথা তার অনুসারীরা উল্লেখ করেন।

২০২৬ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রচারণাতেও তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সক্রিয়ভাবে দেখা গেছে।

সংসদ সদস্য হলেও মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ায় তার এলাকার বিএনপির তৃণমূলের একটি অংশের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে—দলের দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের নেতাদের সরকার পরিচালনায় কতটা জায়গা দেওয়া হবে।

আরও যারা আলোচনায়

বিএনপির রাজপথের পরিচিত নেতাদের মধ্যে সাইফুল আলম নীরবের নামও আলোচনায় আসে। দীর্ঘদিন ঢাকা মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেতা মামলা ও কারাভোগের মুখোমুখি হয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ঢাকা-১২ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর তাকে বহিষ্কার করা হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার অনুসারীদের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে দলীয় নেতারা দাবি করেন।

এ ছাড়া ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু, সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের নামও দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের তালিকায় উঠে আসে। তাদের কেউ মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েছেন, কেউ আবার বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নেই।

মূল্যায়নের অপেক্ষায় তৃণমূল

বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন শুধু মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডেও তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, দীর্ঘ সময়ে অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে থেকেছেন, বাড়িঘর ছেড়ে জীবন কাটিয়েছেন এবং নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব, চুক্তিভিত্তিক সরকারি নিয়োগ ও স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়নের মাধ্যমে মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে বিএনপির বর্তমান সরকারে নতুন মুখ, দক্ষতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের অভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগানো হবে, সেটিই এখন দলের ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়া নেতাদের অনেকে প্রকাশ্যে ধৈর্যের কথা বললেও তৃণমূলের একটি অংশ দ্রুত তাদের মূল্যায়ন প্রত্যাশা করছে।

তবে সরকার গঠনের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত মূল্যায়নের সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও কঠিন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবিষ্যতে দলীয় ও সরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন দায়িত্ব বণ্টন করেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞ নেতাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজে কীভাবে যুক্ত করা হবে, তার ওপর দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, তৃণমূলের মনোবল এবং সরকার পরিচালনার সঙ্গে দলীয় অভিজ্ঞতার সমন্বয় অনেকটাই নির্ভর করতে পারে।