ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৩:৪৫:৩০ PM

শেরে বাংলা স্কুলে নিয়োগ ও আর্থিক অনিয়মের তদন্ত দাবি

স্টাফ রিপোটার।। করাপশনমিরর.কম
19-07-2026 12:36:31 PM
শেরে বাংলা স্কুলে নিয়োগ ও আর্থিক অনিয়মের তদন্ত দাবি

 টিকাটুলির শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট অনেকের দাবি, বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও প্রচলিত বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এসব অভিযোগের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক পরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

অভিযোগ রয়েছে যে, অতীতে কিছু শিক্ষককে যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, গভর্নিং বডির রেজুলেশন এবং অন্যান্য আবশ্যক নথিপত্রের ঘাটতি ছিল। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তদন্ত করেছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে কিছু নিয়োগে অনিয়মের বিষয় উঠে আসে এবং সেগুলো পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে যে, সাবেক গভর্নিং বডির সভাপতি ও সচিবের সময় কিছু নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তীতে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলেও কিছু ব্যক্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি অথবা প্রয়োজনীয় যোগ্যতা প্রদর্শন করতে পারেননি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব গ্রহণের পর কিছু ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগ পান। অভিযোগকারীদের দাবি, এ ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঘটেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে কয়েক বছরের বেতন-ভাতা একত্রে প্রদান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, এসব অর্থপ্রদান যদি বিধিবহির্ভূত হয়ে থাকে, তাহলে বিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আরও বড় ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, যা যথাযথভাবে তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। যদি কোনো অর্থ অবৈধভাবে প্রদান হয়ে থাকে, তবে তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায়িত্ব নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আর্থিক লেনদেনে অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষক ও অভিভাবক। তাদের মতে, শিক্ষক নিয়োগে যদি মেধা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে অন্য কোনো বিষয় প্রাধান্য পায়, তাহলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল শক্তি হলো দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক। তাই নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা এবং প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ পদ্ধতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পরিবেশ বর্তমানে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম ও সুনাম আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ অবস্থায় অভিযোগকারীরা বর্তমান সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র, নিয়োগ প্রক্রিয়া, আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আইন ও বিধিমালার আলোকে পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। যদি কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ অনিয়মে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যারা নির্দোষ, তদন্তের মাধ্যমে তাদের অবস্থানও স্পষ্ট হওয়া উচিত।

পরিশেষে, শেরে বাংলা বালিকা বিদ্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর সুনাম, শিক্ষার মান এবং আর্থিক স্বচ্ছতা রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব। তাই অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে।