ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৯:১৪:২২ PM

সালাম মোল্লার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোটার।। করাপশনমিরর.কম
13-07-2026 06:31:47 AM
সালাম মোল্লার বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

বাকেরগঞ্জ থানার সাবেক ওসি আব্দুস সালাম মোল্লার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তুলে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন অভিযোগকারী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলা ও আইনি হয়রানির ঘটনা ঘটছে, তার পেছনে একটি প্রভাবশালী মহল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার নেপথ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান রয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, মাঠপর্যায়ে অর্থের জোগান ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন সোহেল ফরাজী, তেল ফারুক এবং উগান্ডা রুবেল নামে কয়েকজন ব্যক্তি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারী বলেন, তিনি কখনো প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চাননি। বরং আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য একদিন প্রকাশ পাবে।

তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৬ সালের ২৫ মে দ্বিতীয়বার জেলগেট থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গভীর রাতে থানায় অবস্থানকালে তিনি এমন একটি ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন, যেখানে তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী সোহেল ফরাজীর কাছ থেকে ওসি আব্দুস সালাম মোল্লা নগদ ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। অভিযোগকারী বলেন, তিনি নিজ চোখে এই ঘটনা দেখেছেন এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে প্রমাণ উপস্থাপন করবেন বলে জানান। তবে এই অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও জানা যায়নি।

এছাড়া অভিযোগকারী দাবি করেন, আব্দুস সালাম মোল্লার বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ প্রচলিত রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের মাদক মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা এবং সচ্ছল পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। তাই আদালতের প্রতি সম্মান রেখে তিনি এ মুহূর্তে সব নথি ও তথ্য প্রকাশ করছেন না। তিনি মনে করেন, বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আদালতের বাইরে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ প্রকাশ করবেন। তাঁর দাবি, বিচার শেষে তিনি ঘুষ গ্রহণের ভিডিও, কল রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশ করবেন এবং সেগুলো আইনগত প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করবেন।

সম্প্রতি আব্দুস সালাম মোল্লাকে সরসি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারী উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত।

পরিশেষে অভিযোগকারী জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান, যদি কারও কাছে সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, দুর্নীতি বা ঘুষসংক্রান্ত আইনসম্মত ও যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য বা প্রমাণ থাকে, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা বা আদালতে জমা দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সর্বোত্তম পথ হলো আইনের শাসনের প্রতি আস্থা রাখা এবং বিচারিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করা।