ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৭:৩২:২৬ PM

গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলি বাণিজ্যে:তদন্তের দাবি

স্টাফ রিপোটার।। করাপশনমিরর.কম
19-07-2026 12:07:06 PM
গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলি বাণিজ্যে:তদন্তের দাবি

গণপূর্ত অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও শতকোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রকৌশলীর দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এই বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পছন্দের পদায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, এমন তদন্ত হলে বদলি বাণিজ্যের নেপথ্যের সিন্ডিকেট, অর্থ লেনদেনের প্রকৃত চিত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

বিভিন্ন মহলে আলোচিত অভিযোগ অনুযায়ী, অর্থের বিনিময়ে সুবিধাজনক বদলি পাওয়া নির্বাহী প্রকৌশলীদের তালিকায় যাদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে, তারা হলেন সৈয়দ ইসকান্দার আলী, জুবায়ের বিন হায়দার, নাজমুল আলম রব্বানী, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ তরিকুল আলম, রুবাইয়াত ইসলাম, আজমুল হক, মিজানুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম খান, এ. কে. এম. তানভীর আহমেদ এবং মোহাম্মদ ফতেহ আজম খান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য জানা সম্ভব হয়নি।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে বদলি হওয়া অধিকাংশ প্রকৌশলী বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা শত শত কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীকে নিয়েও নানা অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি তৎকালীন গণপূর্ত সচিব ও মন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের পদ রক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থি হিসেবে উপস্থাপন করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন সভা-সেমিনারে তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রশংসায় বক্তব্য দেন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেরও প্রকাশ্যে প্রশংসা করেন। তবে এসব কর্মকাণ্ডের পরবর্তীতে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে তোলা হচ্ছে।

এদিকে আরও একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর জাতীয় শোক ঘোষণা করা হলেও তিনি জানাজায় অংশ নেননি। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এমন পরিস্থিতিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

অন্যদিকে, সিনিয়র সাংবাদিক বশির হোসেন বাবু–এর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগও বিভিন্ন মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সাংবাদিকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম পূর্বশর্ত। এ ধরনের আচরণের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে সিনিয়র সাংবাদিক বশির হোসেন বাবুর সঙ্গে সংঘটিত অশোভন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।