মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব নিকারুজ্জামানকে ঘিরে নতুন করে নানা অভিযোগ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি ২১, ২৩, ২৬, ২৭ ও ৩০ জুলাই ঢাকার রামপুরাসহ কয়েকটি সহিংস এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় তার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, নিকারুজ্জামানের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার বাবা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং তার ছোট ভাই দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় ব্যক্তির প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত—এমন কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।
এছাড়া অভিযোগ করা হচ্ছে, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিত জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন এবং ওই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য বা কোনো সরকারি তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি।
একই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সায়েম ও ছড়াকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে নিকারুজ্জামানের বিরুদ্ধে একই ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও জনআস্থা বজায় রাখতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের দাবি, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অবস্থানও আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা প্রয়োজন, যাতে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।
প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় সুশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নিকারুজ্জামানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণ এবং তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশেরও আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে জনমনে আস্থা বজায় থাকে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ থাকে।