ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৭:৩২:৫২ PM

অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের শাস্তি দাবি

স্টাফ রিপোটার।। করাপশনমিরর.কম
19-07-2026 12:23:02 PM
অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের শাস্তি দাবি

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষার দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জনপরিসরে আলোচনার বিষয়। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (মূসক পরিবীক্ষণ ও করদাতা সেবা) ও কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার তানজিনা রইসকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ঘটনায় সেই আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে।

এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর তানজিনা রইসকে এক মাসের অর্জিত ছুটি মঞ্জুর করা হয়। ওই ছুটিতে তার গন্তব্য হিসেবে থাইল্যান্ড অনুমোদিত ছিল এবং ৮ ডিসেম্বর থেকে তিনি ছুটি ভোগ শুরু করেন। তবে ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি।

পরবর্তীতে এনবিআরের অনুসন্ধানে জানা যায়, অনুমোদিত গন্তব্যের পরিবর্তে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তিনি ই-মেইলে দাবি করেন যে, ছুটির মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এনবিআর জানায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেই আবেদন করা হয়নি। ফলে তার আবেদন গ্রহণ করা হয়নি এবং ৪ মার্চ তাকে অবিলম্বে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশও পালন করেননি।

এরপর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অনুমতি ছাড়া ৬০ দিনের বেশি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা এনবিআরের সদস্য ড. মোহা. আল আমিন প্রামাণিক তদন্ত শেষে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হলেও তানজিনা রইস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জবাব দেননি। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সম্মতির পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

এই ঘটনা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। সরকারি ছুটি গ্রহণ, বিদেশ ভ্রমণ এবং কর্মস্থলে অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে অব্যাহতি পান না।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তানজিনা রইসের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার দাবি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আদালতের চূড়ান্ত রায় বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। ফলে এসব দাবিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার বা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত, অর্থপাচারের বিচার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করাও আইনের শাসনের পরিপন্থী।

তানজিনা রইসের চাকরিচ্যুতির ঘটনাটি প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে তার বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতি বা অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে কোনো পৃথক তদন্ত চলমান থাকে, তাহলে তার ফলাফল এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নির্ধারিত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তি নয়, অপরাধের বিচার নিশ্চিত করাই সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ ও জনগণের অর্থের সুরক্ষায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব।