ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬,
সময়: ০৯:০৮:২৫ PM

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা

স্টাফ রিপোটার।। করাপশনমিরর.কম
02-07-2026 08:27:01 AM
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি দীর্ঘ লেখায় সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা আলেপ উদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। লেখাটি সাইফুল আলম নামে একজনের নামে প্রচারিত হচ্ছে। এতে দাবি করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীকে আটক করার উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিকে না পেয়ে তার স্ত্রী ও শ্যালককে বাসা থেকে তুলে নিয়ে র‍্যাব-১১-এর হেফাজতে রাখা হয়।

লেখাটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, পরে ওই শিক্ষার্থী আত্মসমর্পণ করলে তার স্ত্রীকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা রক্ষা করা হয়নি। বরং অভিযুক্ত কর্মকর্তা আলেপ উদ্দিন ওই নারীকে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। লেখক উল্লেখ করেছেন, এসব ঘটনা রমজান মাসের শবে কদরের দিনেও সংঘটিত হয়েছিল বলে ভুক্তভোগীর পরিবার দাবি করেছে।

বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, নির্যাতনের বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীর স্বামী অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, এর জবাবে অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি বার্তায় দাবি করেন যে, বন্দিদের স্ত্রীদের ধর্ষণ করা র‍্যাবে অলিখিতভাবে স্বীকৃত। তবে এই বার্তার সত্যতা বা উৎস সম্পর্কে কোনো স্বাধীন প্রমাণ লেখাটিতে উপস্থাপন করা হয়নি।

লেখকের দাবি, নির্যাতনের পর ওই নারী চরম মানসিক আঘাত ও ট্রমায় ভুগতে থাকেন। তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেননি এবং ২০১৯ সালে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। লেখাটিতে তার মৃত্যুর জন্য রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের পরিবেশকে দায়ী করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কেও কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্তের উল্লেখ নেই।

লেখার শেষাংশে র‍্যাবের বিরুদ্ধে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, অপহরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে যে, এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার র‍্যাব ও এর কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

পুরো লেখাটি মূলত একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ, ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক-সামাজিক মন্তব্যের সমন্বয়ে রচিত। এতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, বিচারিক প্রক্রিয়া ও স্বাধীন প্রমাণের মাধ্যমে সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগকে আদালতের রায় বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বা প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য, তদন্তের অবস্থা এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য—সব দিকই সমান গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা উচিত।